পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে চিনের ৭ হাজার কেজি ওজনের অনিয়ন্ত্রিত স্পেস স্টেশন‚ যা আছড়ে পড়বে এপ্রিলের গোড়াতেই বিজ্ঞানীদের সম্ভাবনা?

চীন স্পেস স্টেশন

চিনা স্পেস স্টেশন ভেঙ্গে পর্বে পৃথিবীতে এই এপ্রিল এই

বিশেষজ্ঞদের ধারণা‚ চীনা স্পেস স্টেশন তিয়াংগং-১ নামের ওই মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে অত্যধিক গতিবেগে প্রবেশ করায় ভস্মীভূত হবে এটা। চিনা ভাষায় তিয়াংগং শব্দের অর্থ হল স্বর্গীয় প্রাসাদ। যতই ছাই হোক না কেন‚ কিছু আবর্জনার মতো অংশ যে ছিটকে পড়বেই তা নিয়েও নিশ্চিত মহাকাশবিজ্ঞানীরা। তবে তাতে মানুষের আহত হওয়ার আশঙ্কা নেই বললেই চলে। স্পেস স্টেশনের দেব্রি পড়বে মহাসাগরে বা জনহীন বিস্তৃত প্রান্তরে।

অনিয়ন্ত্রিত চিনা স্পেস স্টেশন ধেয়ে আসছে পৃথিবীর দিকে। সেটার ওজন অন্তত ৭ টন বা ৭ হাজার কেজি। আগামী ১ এপ্রিল আছড়ে পড়বে পৃথিবী। পূর্বাভাস ইওরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির।

গত ৬০ বছর ধরে পৃথিবীতে ৬ হাজারের কাছাকাছি এরকম টুকরো টাকরা ছিটকে পড়েছে। বেশিরভাগই কৃত্রিম উপগ্রহ বা রকেটের অংশ। মাত্র একবারই স্পেস জাঙ্ক ছিটকে এসে পড়ে মানুষের গায়ে। তবে তাতে তিনি আহত হননি।

তিয়াংগংকে কক্ষপথে স্থাপন করা হয় ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে। পাঁচ বছর পরে বন্ধ করে দেয় কাজ। না মহাকাশ বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন এই স্পেস জাঙ্ক পুরোটাই পড়বে প্রশান্ত মহাসাগরে। যেখানে মানুষের বসতির চিহ্নমাত্র নেই।

মনে করা হচ্ছে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করামাত্র টুকরো টুকরো হয়ে যাবে তিয়াংগং-১। সামান্য কিছু অংশই পড়বে পৃথিবীর ভূভাগে।

আরো পড়ুন – হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে সরানোর জের! চরম সিদ্ধান্ত কলেজ পড়ুয়া তরুণীর

বিগত কয়েক বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানী ও গবেষকদের কাছে মাথাব্যথার বড় কারণ স্পেস জাঙ্ক বা স্পেস দেব্রি। যেগুলো ভস্মীভূত হয়ে যাচ্ছে‚ ফিরে আসছে‚ সেগুলোর নয় একটা গতি হল। কিন্তু যে অংশ মহাকাশেই থেকে যাচ্ছে ?

১৯৫৭ সাল থেকে মানবসভ্যতা ৫ হাজারের বেশি রকেট পাঠিয়েছে মহাকাশে। কক্ষপথে স্থাপিত হয়েছে সাড়ে সাত হাজার কৃত্রিম উপগ্রহ। যার মধ্যে ৪৩০০ টি এখনও আছে সেখানেই।

চীন স্পেস স্টেশন ভেঙ্গে পর্বে পৃথিবীতে এই এপ্রিল এই
চীন স্পেস স্টেশন ভেঙ্গে পর্বে পৃথিবীতে এই এপ্রিল এই

বিজ্ঞানীদের ধারণা‚ মহাকাশে প্রায় ৩০ হাজার জিনিস আছে যা আদপে স্পেস দেব্রি বা স্পেস জাঙ্ক বা মাহাকাশীয় আবর্জনা। কবে সেগুলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে বিলীন হবে‚ অপেক্ষা করা ছাড়া উপয় নেই।

তাই ভবিষ্যতের মহাকাশযান এমন করা হচ্ছে যাতে তারা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আবার ফিরে এলে Designed for Demise হয়। থাকবে উন্নত প্রযুক্তির জ্বালানি ভাণ্ডার‚ যা অতি উচ্চ তাপমাত্রাও সহ্য করতে পারে। টেক অফ করার সময় তিয়াংগং -১ -এর ওজন ছিল প্রায় ৮.৫ টন বা ৮৫০০০ কেজি। জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ায় ওজন কমেছে ১ টন।

আরো পড়ুন – প্রেম কি ? প্রেমের পেছনের লুকিয়ে থাকা বিজ্ঞান (The Science of Love)

 

বাকিদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply